অতি ঝগড়াটে স্বভাব: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় মানসিকতা।

​"আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত, যে অতি ঝগড়াটে।"

— [সহিহ বুখারী, হাদিস: ২৪৫৭]






​আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ কি আমরা দেখি না, যাদের মূল লক্ষ্যই থাকে যেকোনো মূল্যে তর্কে জেতা? ভুল বা সঠিক যা-ই হোক, নিজের জেদ বজায় রাখতে যারা কুযুক্তি, চিৎকার কিংবা কটু কথার আশ্রয় নেন?


​রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই মানসিকতাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। ইসলামের পরিভাষায় একে বলা হয় 'আল-আলাদ্দুল খাসিম'—অর্থাৎ 


১.এমন এক খিটখিটে ও ঝগড়াটে স্বভাব, যা সমাজে হিংসা ছড়ায় এবং মানুষের শান্তি কেড়ে নেয়। 


২. ​অন্যায় জেনেও নিজের জেদ বা অহংকার ধরে রাখার জন্য তর্ক চালিয়ে যায়।

৩. ​কোনো বিতর্কে সত্যকে মেনে নিতে চায় না, বরং অপর পক্ষকে দমাতে কুযুক্তি, মিথ্যা ও কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়।

৪. ​মানুষের ভুলত্রুটি খুঁজে বেড়ায় এবং যেকোনো সাধারণ বিষয়কে বড় বিবাদে রূপ দিতে পছন্দ করে।


​আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:

​"আর রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদের সম্বোধন করে (অনর্থক কথা বলে), তখন তারা বলে, 'সালাম' (শান্তি)।"

— [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৩]

অনর্থক বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার পুরস্কার কতটা বিশাল, তা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) স্পষ্ট করে দিয়েছেন:


​"যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও অনর্থক বিতর্ক পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের পাশে একটি ঘরের জিম্মাদার হব।"

— [সুনানে আবু দাউদ]


​ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বিতর্কের আদব নিয়ে চমৎকার একটি কথা বলেছিলেন:

​"আমি যখনই কারও সাথে বিতর্কে জড়াতাম, আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম যেন সত্যটি অপর পক্ষের মুখ দিয়ে প্রকাশ পায় (যাতে আমি তা মেনে নিতে পারি)।"— এটাই হলো অহংকারহীনতা।


​আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অনর্থক তর্ক কেবল শক্তির অপচয়। যেমনটা বলা হয়:

​"তর্কে জেতার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তা এড়িয়ে যাওয়া।"


​আজকের ডিজিটাল যুগে আমাদের করণীয়

সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশন কিংবা বাস্তব জীবন—যেকোনো জায়গায় দ্বিমত হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই দ্বিমত যেন কাদা ছোঁড়াছুড়িতে রূপ না নেয়। আলোচনার উদ্দেশ্য হোক সত্যকে জানা, কাউকে নিচু করা নয়।

​আসুন, নিজের মেজাজ আর জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখি। কথায় নম্রতা আনি। কারণ, অহংকার আর জেদ তর্কে জেতাতে পারলেও, আল্লাহর কাছে আমাদের ছোট করে দেয়।


​আল্লাহ আমাদের সবাইকে শান্ত ও সহনশীল হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

No comments

Powered by Blogger.