হৃদয়ের প্রশান্তির চাবিকাঠি: দয়া, ভালোবাসা ও দান

মানুষের জীবনে প্রকৃত শান্তি আসে না সম্পদের প্রাচুর্যে, বরং আসে হৃদয়ের উদারতায়। অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দান-খয়রাত করা—এই গুণগুলোই অন্তরের গভীরে প্রশান্তির আলো জ্বালিয়ে দেয়।




হাতেমতাই তার স্ত্রীকে বলেছিলেন- 

"যখন তুমি খাদ্য তৈরি করবে তখন একজন অনাহারীকে দাওয়াত করো, কারণ আমি তা একা খাব না।"


এরপর তিনি স্ত্রীর কাছে তাঁর দর্শন ব্যক্ত করে বলেছেন,

"আমাকে এমন একজন দয়ালু দেখাও যে দান করে অভাবে পড়ে, না খেয়ে তার মৃত্যুর সময়ের আগেই মারা গেছে। অথবা এমন একজন কৃপণ দেখাও যে দান না করে ধনী হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে, তবেই আমার মন শান্তি পাবে।"



দান করে কেউ কি অভাবে মরে গেছে?”—এটি আসলে একটি চ্যালেঞ্জ, যা যুগে যুগে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। দান মানুষকে নিঃস্ব করে না, বরং আল্লাহর কাছে তাকে আরও প্রিয় করে তোলে। " আমি তোমাদের যে রিজিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করো" ( সূরা বাকারা: ২৫৪)  “তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার উত্তম প্রতিদান দেন।” (সূরা সাবা: ৩৯)। “সদকা সম্পদ কমায় না।” (সহীহ মুসলিম)


আর কৃপণতা? তা মানুষকে একাকী করে, অশান্ত করে, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে কিছুই দিতে পারে না। “যারা কৃপণতা করে... তারা যেন মনে না করে এটা তাদের জন্য ভালো; বরং তা তাদের জন্য মন্দ।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮০)


দয়া বা দান শুধু অর্থ দানেই সীমাবদ্ধ নয়—একটি হাসি, একটি সান্ত্বনার কথা, ক্ষুধার্তকে একবেলা খাওয়ানো—সবই দান।

No comments

Powered by Blogger.